আজ স্বর্ণের মূল্য প্রতি আউন্স $4,000-এর কাছাকাছি অবস্থান করছে, কারণ ট্রেডাররা আগামীকাল প্রকাশিতব্য ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন—যেখানে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগের
আজ স্বর্ণের মূল্য প্রতি আউন্স $4,000-এর কাছাকাছি অবস্থান করছে, কারণ ট্রেডাররা আগামীকাল প্রকাশিতব্য ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন—যেখানে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগের সেশনে 0.5% মূল্য বৃদ্ধির পর, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় 0.2% কমে $4,007.25-এ নেমে এসেছে। রুপার মূল্য 1.2% কমে $53.30-এ দাঁড়িয়েছে; এছাড়া প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মূল্যও কমেছে।
গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে স্বর্ণের মূল্য বাহ্যিক পরিস্থিতি দ্বারা কিছুটা কম প্রভাবিত হচ্ছে। নতুন করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানোর আশা তৈরি হওয়ায় জ্বালানি তেলের মূল্য টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমেছে। অন্যদিকে, এআই খাতের প্রতি নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ায় স্টক মার্কেটেও পুনরুদ্ধারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। তা সত্ত্বেও, স্বর্ণের ওপর চাপ বজায় রয়েছে। জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের প্রভাবে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা এবং প্রযুক্তি খাতভিত্তিক স্টকের দরপতনের ফলে বিনিয়োগকারীরা অন্যান্য অ্যাসেটে হওয়া লোকসান পুষিয়ে নিতে স্বর্ণ বিক্রি করতে শুরু করেন। শুক্রবার স্বর্ণের মূল্য জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।
ফেডের আসন্ন সিদ্ধান্তই এখনও মার্কেটে মূল প্রভাব বিস্তার করছে। গত এক মাসে সুদের হার ব্যাপারে প্রত্যাশায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বজায় থাকার ইঙ্গিতের পর ট্রেডাররা শুরুতে অক্টোবরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ধরে নিয়েছিলেন, তবে নীতিনির্ধারকদের মন্তব্যের কারণে সেই প্রত্যাশা স্তিমিত হয়ে পড়ে। বর্তমানে প্রত্যাশা অনুযায়ী, এই সপ্তাহে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা মাত্র ১০ শতাংশের মতো; যদিও জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের কারইণে বছরের পরবর্তী সময়ে মুদ্রানীতি আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা টিকে আছে।
মনে রাখবেন যে স্বর্ণের থেকে কোনো সুদ পাওয়া যায় না, তাই মার্কিন ডলারের দর বাড়লে তা সবসময়ই স্বর্ণের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেক বিশ্লেষক যুক্তি দেন যে স্বর্ণের মূল্যের একটি সুস্পষ্ট ফ্লোর প্রাইস জানা প্রয়োজন, কারণ জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি ঝুঁকিকে সামনে নিয়ে আসে এবং মুদ্রানীতি আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা স্বর্ণের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তারা স্বর্ণকে একটি সংকটপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখছেন, যেখানে এর নিচের লেভেলে ক্রেতা না পাওয়া গেলে সেই সাপোর্ট লেভেল দ্রুত উবে যেতে পারে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, স্বর্ণের ট্রেডাররা বর্তমানে অপেক্ষমাণ অবস্থায় রয়েছে; এই সপ্তাহে স্বর্ণের মূল্যের মুভমেন্ট মূলত ফেডারেল রিজার্ভের গৃহীত অবস্থান এবং জ্বালানি তেলের মূল্যের ওপর নির্ভর করবে। ফেডারেল রিজার্ভ যদি সুদের হার অপরিবর্তিত রাখে এবং ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা জোরালো না হয়, তবে স্বর্ণের মূল্য $4,000-এর কাছাকাছি বজায় থাকতে পারে এবং ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হতে পারে। কিন্তু ওয়াশিংটন যদি ইরানের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান বজায় থাকে অথবা জ্বালানি তেলের মূল্য আবারও বেড়ে যায়, তবে স্বর্ণের পক্ষে আরও দরপতন ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

স্বর্ণের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের স্বর্ণের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স $4,062-এ পুনরুদ্ধার করতে হবে। এতে করে স্বর্ণের মূল্যের $4,124-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে; যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $4,192 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। দরপতনের ক্ষেত্রে স্বর্ণের মূল্য $4,000 লেভেলে থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। যদি তারা সফল হয়, এই রেঞ্জ ব্রেক করে স্বর্ণের মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনগুলোর উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং স্বর্ণের মূল্য $3,954-এ নেমে যেতে পারে ও পরবর্তীতে সম্ভবত $3,906 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।