আজ স্টক ও ফিউচার মার্কেটে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। গতকাল টেসলা ও মেটার আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও, এআই খাতের উপর ভর করে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সংশয় কাটেনি। নাসডাক
আজ স্টক ও ফিউচার মার্কেটে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। গতকাল টেসলা ও মেটার আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও, এআই খাতের উপর ভর করে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সংশয় কাটেনি। নাসডাক 100 সূচকের ফিউচার প্রায় 1.6% এবং S&P 500 সূচকের ফিউচার প্রায় 0.9% হ্রাস পেয়েছে। ইউরোপীয় ইকুইটি ফিউচার 1% হ্রাস পেয়েছে। এশিয়ার মার্কেটে দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক 4.1% দরপতনের শিকার হয়েছে, যা এপ্রিল মাসের পর সর্বনিম্ন। চীনের সিএসআই 300 সূচক 2% কমে বিয়ারিশ বা নিম্নমুখী প্রবণতা দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, হংকংয়ের চায়না টেক সূচকটি সেপ্টেম্বর ২০২৪-এর পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। সামগ্রিকভাবে MSCI এশিয়া-প্যাসিফিক সূচক প্রায় 2% হ্রাস পেয়েছে।
প্রকাশিত আয়ের প্রতিবেদনের মিশ্র ফলাফল বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে পারেনি। মূলধনী ব্যয়ের পূর্বাভাস কমিয়ে দেওয়ায় টেসলার স্টকের দর আফটার আওয়ার ট্রেডিংয়ে 3.3% হ্রাস পেয়েছে; অন্যদিকে, এআই খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় মেটার স্টকের দর 2.2% বেড়েছে। দুর্বল পূর্বাভাস কারণে ল্যাম রিসার্চের স্টকের দর 7.4% কমেছে। মূলত বিনিয়োগকারীদের সন্তুষ্ট করা কঠিন—কোম্পানিগুলো যখন ব্যয় বাড়ায় কিংবা কমায়, উভয় ক্ষেত্রেই বিনিয়োগকারীরা প্রতিক্রিয়া দেখায়। বার্কলেসের মতে, ট্রেডাররা এখন আর কেবল এআই নিয়ে সৃষ্ট আবেগের ওপর ভিত্তি করে ট্রেডিং করছে না; বরং এখন তারা শক্তিশালী আর্থিক প্রতিবেদনের সপক্ষে আরও জোরালো প্রমাণ দাবি করছে—বিশেষ করে কোম্পানির ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস এবং আয়ের উৎস সংস্থানের ক্ষেত্রে।
আগামী দিনগুলোতে খুব বেশি বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না; আগামী সপ্তাহে মাইক্রোসফট ও অ্যালফাবেটের আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। একই সঙ্গে, সবার দৃষ্টি আবারও জ্বালানি তেলের মূল্যের দিকে ফিরে আসবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। হুথিদের হুমকির মুখে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবে কর্মরত জরুরি নয় এমন কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছেড়ে আসার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে পুনরায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ছে: ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের দর প্রায় 2.4% বেড়ে প্রতি ব্যারেল $111.40-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে। স্বর্ণের মূল্য প্রায় 1.6% কমে আউন্সপ্রতি $4,075-এর কাছাকাছি নেমে এসেছে এবং বিটকয়েনের মূল্য 2%-এরও বেশি কমে $82,600-এ দাঁড়িয়েছে।
সব মেয়াদের ট্রেজারি বন্ডের ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিস্থিতি পরিলক্ষিত হচ্ছে; ৩০ বছর মেয়াদী বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ 3 বেসিস পয়েন্ট কমে 5.38%-এ নেমে এসেছে, যা ২৩ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন। জি-১০-ভুক্ত কারেন্সিগুলোর মধ্যে ইয়েন সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং এমনকি মার্কিন ডলারের বিপরীতেও এটি শক্তিশালী হয়েছে।
সারকথা হলো, নিশ্চিত সুফল পাওয়ার প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত ট্রেডাররা এআই খাতের পেছনে বড় বিনিয়োগ করতে আগ্রহী নয়; এছাড়া জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আরও চাপ সৃষ্টি করেছে। কোম্পানিগুলোর আয়ের মিশ্র ফলাফল এবং ব্রেন্ট ক্রুডের দর $110-এর উপরে থাকায়, বিনিয়োগকারীরা এখনও নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যমগুলোকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।

টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী S&P 500 সূচকের ক্রেতাদের প্রধান কাজ হবে সূচকটির মূল্যের $7,698-এর নিকটতম রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করানো। এটি আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিশ্চিত করবে এবং $7,718-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে। সূচকটির দর $7,737-এর উপর ধরে রাখাও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। যদি ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা কমে গিয়ে দরপতন হয়, তাহলে সূচকটির দর $7,679-এ থাকা অবস্থায় বায়ারদের সক্রিয় হতে হবে। এই লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সূচকটির মূল্য দ্রুত $7,656-এ নেমে যেতে পারে এবং $7,633 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।