বুধবার খুব বেশি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না এবং এর কোনোটিই খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। জার্মানিতে আজ আগস্ট মাসের শিল্প উৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, কিন্তু ট্রেডারদের কারোরই কি এখন সেই প্রতিবেদনের প্রতি বিশেষ কোনো আগ্রহ আছে? এছাড়া আজ অন্য কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদনও প্রকাশিত হবে না। তাই সবকিছু থেকেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে মার্কেটে সম্ভবত মন্থর মুভমেন্ট এবং স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বজায় থাকবে—তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, গত এক মাসে মার্কিন ডলার ক্রয়ের জন্য ট্রেডারদের বিশেষ কোনো কারণের প্রয়োজন হয়নি। ফলে, যেকোনো মুহূর্তেই মার্কিন ডলারের দর বেড়ে যেতে পারে।

বুধবারের গুরুত্বপূর্ণ ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা ভুজচিচ এবং সিপোলোনের বক্তব্য অনুষ্ঠিত হবে। সেপ্টেম্বরে মুদ্রাস্ফীতির হার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়ে যাওয়ায়, সুদের হার সংক্রান্ত বিষয়ে ইসিবি প্রতিনিধিরা হয়তো কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে পারেন। তবে, আর্থিক নীতিমালা কঠোর করার এই প্রবণতা এবং এ বছর তৃতীয়বারের মতো সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ইউরোর দর বৃদ্ধিতে খুব একটা সহায়তা করবে না; কারণ ট্রেডাররা এর আগেও দুবার ইসিবি কর্তৃক আর্থিক নীতিমালা কঠোর করার পদক্ষেপকে উপেক্ষা করেছে। এমনকি ইসিবির হকিশ বা কঠোর অবস্থান এবং ফেডারেল রিজার্ভের অবস্থান নমনীয় হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও ইউরোর মূল্য বাড়ছে না।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও বেশ উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে, যদিও সামগ্রিক প্রেক্ষাপটের অবনতি ঘটেনি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা হচ্ছে না, তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করে আসছেন যে মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের পর একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। ট্রাম্প বারবার এ কথাও বলছেন যে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার সংঘাত খুব শীঘ্রই শেষ হয়ে যেতে পারে—এমন কথা তিনি প্রায় দুই বছর ধরেই বলে আসছেন—তাই ট্রেডাররা তাঁর এসব বক্তব্যকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। সপ্তাহান্তে জানা গেছে যে ইয়েমেন দেশটির হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে এবং হুথিরাও সৌদি আরবের তেল ও গ্যাস স্থাপনা ও ট্যাঙ্কারগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। ফলে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের বিপরীতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।
চলতি সপ্তাহের তৃতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের মন্থর দরপতন অব্যাহত থাকতে পারে, কারণ এই নিম্নমুখী প্রবণতা এখন আর মৌলিক, ভূ-রাজনৈতিক বা সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করছে না । আজ ইউরো 1.1198–1.1218 এবং 1.1267–1.1275 এরিয়ায় এবং পাউন্ড 1.3259–1.3267 রেঞ্জের মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে। আজ মার্কেটে স্বল্পমাত্রার ভোলাটালিটি বা অস্থিরতা দেখা যেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।