আজ স্বর্ণের মূল্য সামান্য কমে আউন্সপ্রতি $4,331.29-এ নেমে এসেছে, তবে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে স্বর্ণের 2.2 শতাংশ দরপতন ঘটেছে। গতকাল স্বর্ণের মূল্য 1.8 শতাংশ কমেছিল। বৃহস্পতিবার 5.5 শতাংশ দরপতনের—যা জুন মাসের পর সবচেয়ে বড় দরপতন—পর আজ রুপার দর 0.1 শতাংশ বেড়ে $63.64-এ দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মূল্যও বেড়েছে।
এই দরপতনের পেছনে দুটি কারণ রয়েছে এবং উভয়ই আসলে স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করার কথা ছিল। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে মাসিক ভিত্তিতে উৎপাদক মূল্য সূচক (PPI) 0.4 শতাংশ বেড়েছে—যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ—এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের অপরিশোধিত তেলের দর ব্যারেলপ্রতি প্রায় $108-এ পৌঁছেছে। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির সম্ভাবনা বা সামরিক উত্তেজনা—কোনোটিই স্বর্ণ দর বৃদ্ধিতে সহায়তা করেনি।
জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের কারণে সৃষ্ট নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ এই আশঙ্কাকে আরও তীব্র করেছে যে মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব আরও দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকতে পারে। এই সংযোগের মধ্যেই সেই আপাত বৈপরীত্যটি নিহিত, যা এখন এই স্বর্ণের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে সংজ্ঞায়িত করে। যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে, তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে মুদ্রাস্ফীতি ত্বরান্বিত হচ্ছে, মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির ফলে ফেডারেল রিজার্ভ আর্থিক নীতিমালা কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে যাচ্ছে, এবং আর্থিক নীতিমালা কঠোর হওয়ার সম্ভাবনার কারণে নিয়মিত সুদ বা আয় প্রদান না করা স্বর্ণের দরপতন ঘটছে। ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে স্বর্ণের পক্ষে কাজ করেছে, এখন এটির বিপক্ষে কাজ করছে, এবং টানা তিন সপ্তাহের দরপতন এই বিষয়টিই প্রমাণ করে।
দ্বিতীয় ধাক্কাটি এসেছিল ডেবট মার্কেট থেকে এবং এদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদী বন্ড বাইব্যাকের সম্প্রসারিত কার্যক্রমের প্রথম ধাপে প্রত্যাশার চেয়ে কম পরিমাণ বন্ড কেনার ফলে মার্কিন ট্রেজারির বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ হঠাৎ বেড়ে যায়। এই ঘটনা স্কট বেসেন্টের নেওয়া সেই অপ্রচলিত পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল বন্ড মার্কেটকে স্থিতিশীল করা এবং দীর্ঘমেয়াদী বন্ডের ইয়েল্ডের আকস্মিক বৃদ্ধি রোধ করা।
একটি যৌক্তিক প্রশ্ন মনে জাগে: কারেন্সির ডিভ্যালুয়েশন ধারণার মাধ্যমে মার্কিন ট্রেজারির বিভাগের এই ব্যর্থতা কেন স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখল না? আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এর উত্তর নিহিত রয়েছে সময়ের ব্যবধান বা পরিস্থিতির তাৎক্ষণিকতার মধ্যে: আগস্ট মাসে ঋণ ব্যবস্থাপনায় ওয়াশিংটনের সক্ষমতা নিয়ে অনুরূপ সন্দেহের জেরে স্বর্ণের মূল্য প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছিল; অথচ বর্তমানে ট্রেডাররা অনেক বেশি নিকটবর্তী ও বাস্তব একটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে—আর তা হলো ১৫-১৬ সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠক। যেকোনো ধারণার প্রভাবের চেয়ে সুদের হারের পরিবর্তনের প্রভাব অনেক দ্রুত কাজ করে। তাছাড়া, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের প্রতিশ্রুতি এবং বন্ড ক্রয়ের পরিমাণ ট্রেডারদের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
আমি আশা করছি, ফেডের সেপ্টেম্বরের বৈঠকের পর স্বর্ণের অনুকূল পরিস্থিতি দেখা যাবে; আর এর কারণ নিচে দেওয়া হলো। সোয়াপ মার্কেটে সুদের হার বৃদ্ধির প্রায় ৭০ শতাংশ সম্ভাবনা আগেই প্রতিফলিত হয়ে আছে—অর্থাৎ সিদ্ধান্তটি ট্রেডাররা মোটামুটিভাবে আগেই আমলে নিয়ে নিয়েছে। তবে ডেবট মার্কেটের ওপর এর প্রভাব—বিশেষ করে যেখানে ১০-মেয়াদি বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ প্রায় 5 শতাংশ—তা ট্রেডাররা এখনও পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারেনি। আমার ধারণা, 'গুজবের ভিত্তিতে বিক্রি ও বাস্তবতার ভিত্তিতে কেনা' প্রচলিত বাজার-তত্ত্ব অনুযায়ী, সুদের হার বৃদ্ধির ঘটনাটিই স্বর্ণের জন্য একটি সন্ধিক্ষণ হয়ে দাঁড়াবে। তবে এই পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে কেভিন ওয়ার্শের বক্তব্যের বিষয়টি একটি ঝুঁকির কারণ হতে পারে: তিনি যদি কেবল একবার পদক্ষেপ গ্রহণের ইঙ্গিত না দিয়ে বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ধারাবাহিক প্রক্রিয়া সূচনা করার ইঙ্গিত দেন, তাহলের স্বর্ণের মূল্য দাম $4,200-এর নিচে নেমে যাবে এবং টানা তিন সপ্তাহের দরপতন গড়িয়ে পাঁচ সপ্তাহে গিয়ে ঠেকবে।

স্বর্ণের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের স্বর্ণের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স $4,372-এ পুনরুদ্ধার করতে হবে। এতে করে স্বর্ণের মূল্যের $4,425-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে; যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $4,480 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। দরপতনের ক্ষেত্রে স্বর্ণের মূল্য $4,304 লেভেলে থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। যদি তারা সফল হয়, এই রেঞ্জ ব্রেক করে স্বর্ণের মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনগুলোর উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং স্বর্ণের মূল্য $4,249-এ নেমে যেতে পারে, ও পরবর্তীতে সম্ভবত $4,200 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।