যখন MACD সূচকটি জিরো লাইনের উপরের দিকে উঠতে করেছিল তখন এই পেয়ারের মূল্য 1.1646-এর লেভেল টেস্ট করেছিল, যা ইউরোর বাই পজিশন ওপেন করার জন্য সঠিক এন্ট্রি পয়েন্ট নিশ্চিত করেছিল। ফলে, এই পেয়ারের মূল্য 1.1658-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে বৃদ্ধি পায়।
কেভিন ওয়ার্শের গুরুত্বপূর্ণ ভাষণের আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রভাবে মার্কিন ডলারের কিছুটা দরপতন ঘটেছে। শ্রমবাজারের পরিস্থিতি ইতিবাচকই রয়েছে; কারণ জবলেস ক্লেইমস বা বেকার ভাতার আবেদনের সংখ্যা কমে 203,000-এ নেমে এসেছে এবং চার সপ্তাহের গড় ফলাফল গত বছরের তুলনায় বেশ কম পর্যায়ে অবস্থান করছে। সাধারণত এ ধরনের ফলাফল মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি ঘটায়, কারণ কর্মসংস্থান খাতের স্থিতিশীল পরিস্থিতি ফেডারেল রিজার্ভকে হকিশ বা কঠোর অবস্থান বজায় রাখার সুযোগ করে দেয়। তবে বৈদেশিক বাণিজ্য সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি সামগ্রিক ইতিবাচক চিত্রকে কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে। রপ্তানি হ্রাস এবং আমদানি বৃদ্ধির ফলে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি 17.2% বেড়ে $118.8 বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে; একই সময়ে পণ্য মজুত বা ইনভেন্টরি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত ছিল এবং পাইকারি পর্যায়ে মজুতের পরিমাণ বার্ষিক 5.7% বৃদ্ধি পেয়েছে।
মার্কিন ডলারের সামান্য দরপতনের সুযোগ নিয়ে ইউরোর দঢ় সামান্য বেড়েছে। বাণিজ্য ও মজুদ সংক্রান্ত উদ্বেগ মার্কিন শ্রমবাজারের শক্তিশালী অবস্থাকে ছাপিয়ে গিয়েছে, যার ফলে মার্কিন ডলার যে সহায়তা পাচ্ছিল তা আর থাকেনি।
আজ দিনের প্রথমার্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে যাচ্ছে; এর মধ্যে রয়েছে জার্মানির বেকারত্ব সংক্রান্ত পরিসংখ্যান এবং ফ্রান্সের মুদ্রাস্ফীতি ও জিডিপি প্রতিবেদন। কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সূচকগুলো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বা সহনশীলতা যাচাই করতে সহায়তা করে। অন্যদিকে, মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সূচকের ফলাফল ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার নির্ধারণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। ট্রেডাররা মূলত এই প্রতিবেদনের প্রকৃত ফলাফলের চেয়ে পূর্বাভাস তুলনায় পার্থক্যের প্রতিই বেশি প্রতিক্রিয়া দেখায়। ইউরোর জন্য বর্তমান পরিস্থিতি বেশ চ্যালেঞ্জিং। শুধুমাত্র আসন্ন প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেলেই ইউরোর অবস্থান সুদৃঢ় করতে পারে; কারণ একমাত্র নিশ্চিতভাবে ইতিবাচক ফলাফলই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক হকিশ বা কঠোর অবস্থান গ্রহণের প্রত্যাশাকে নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।
দৈনিক কৌশল হিসেবে, আমি মূলত পরিকল্পনা #1 এবং #2 বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করব।
পরিকল্পনা 1: আজ যখন ইউরোর মূল্য 1.1673-এর লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 1.1654-এর (চার্টে সবুজ লাইন দ্বারা চিহ্নিত) লেভেলে পৌঁছাবে, তখন আপনি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করতে পারেন। মূল্য 1.1673-এর লেভেলে গেলে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করব। আজ শুধুমাত্র আসন্ন প্রতিবেদনের ইতিবাচক ফলাফল প্রকাশিত হলে ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: এই পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি জিরো লাইনের উপরে রয়েছে এবং সেখান থেকে উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা 2: আজ MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকা অবস্থায় মূল্য পরপর দুইবার 1.1642-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী করবে। আমরা 1.1654 এবং 1.1673-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি।
পরিকল্পনা 1: EUR/USD পেয়ারের মূল্য 1.1642-এর (চার্টে লাল লাইন) লেভেলে পৌঁছানোর পর আমি ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করার করার পরিকল্পনা করছি। সেলারদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.1622-এর লেভেল, যেখানে মূল্য পৌঁছালে আমি সেল পজিশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর বাই পজিশন ওপেন করব। আজ আসন্ন প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল প্রকাশিত হলে এই পেয়ারের উপর চাপ ফিরে আসতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: শর্ট পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি জিরো লাইনের নিচে রয়েছে এবং এর নিচে নামতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা 2: MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকা অবস্থায় মূল্য পরপর দুইবার 1.1654-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি আজ ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী করবে। আমরা 1.1642 এবং 1.1622-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করতে পারি।
