শুক্রবারের ট্রেডিং সেশনে GBP/USD পেয়ারের মূল্যেরও সামান্য পুনরুদ্ধার পরিলক্ষিত হয়েছে, আর সপ্তাহান্তে ব্রিটিশ পাউন্ড নতুন অনুঘটকের অপেক্ষায় ছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন, এবং বেশিরভাগ গণমাধ্যম সূত্র নিশ্চিত করেছে যে স্টারমার আসলে আজ, সোমবার পদত্যাগ করতে পারেন। ফলে চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই ব্রিটিশ পাউন্ড চাপের সম্মুখীন হয়েছে। তবে আমরা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগকে পাউন্ড বিক্রির যথাযথ কারণ মনে করি না। ব্রিটেনে গত ১০ বছরে যতবার সরকার পরিবর্তন হয়েছে, তা মূলত রাজনৈতিক সংকটের চেয়ে নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দস্তানা বদলানোর মতোই দেশটির প্রধানমন্ত্রী বদল হচ্ছে, কারণ কেউই এমন কোনো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা দিতে পারেনি যা জনগণের ব্যাপক সমর্থন পায়। ফলশ্রুতিতে, এই সপ্তাহে ব্রিটেনবাসী গত দশকের মধ্যে সপ্তম সরকারপ্রধান পেতে পারে। পূর্ববর্তী কোনো প্রধানমন্ত্রীই তাদের মেয়াদ পূর্ণ করেননি। কয়েক সপ্তাহ আগে লেবার পার্টির নির্বাচনী পতনের খবর ছড়ানোর সময় ব্রিটিশ পাউন্ডের দরপতন হয়েছিল—তবে একটি একক ঘটনার উপর ভিত্তি করে চিরকাল পাউন্ডের দরপতন অব্যাহত থাকতে পারে না।

শুক্রবার 5-মিনিট টাইমফ্রেমে দুইটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশন শুরুর ঠিক আগে এই পেয়ারের মূল্য 1.3175-1.3180 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করেছিল, এবং তারপর প্রায় এক ঘন্টা পরে মূল্য ওই এরিয়ার উপরে চলে আসে। প্রথম সিগন্যালটি ভুল প্রমাণিত হয়েছিল, আর দ্বিতীয়টি থেকে প্রায় 30-35 পিপ্স মুনাফার সুযোগ পাওয়া গিয়েছিল।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্য সাইডওয়েজ চ্যানেল থেকে বের হয়ে নিম্নমুখী হয়েছে, তবে আমরা সন্দিহান যে এই দরপতন অব্যাহত থাকবে কিনা। অবশ্য, মার্কিন ডলারের আরও দর বৃদ্ধির জন্য যদি গুরত্বপূর্ণ কোনো কারণ দেখা যায়, তাহলে এমনটা ঘটতে পারে—কিন্তু বর্তমানে এমন কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের বিষয়টি সম্পূর্ণ না হলেওই কিছুটা সমাধান হয়েছে এবং ফেড কেবল চলতি বছরের শেষদিকে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে; এই বিষয়টি ইতোমধ্যেই মার্কেটে মূল্যায়িত হয়েছে। এই মুহূর্তে, মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির সম্ভাবনা অযৌক্তিক বলেই মনে হচ্ছে। সেইসাথে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক সংকট যেন এক নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
সোমবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3259-1.3267 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করে তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3175-1.3180 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3259-1.3267 এরিয়ার উপরে কনসোলিডেট করে তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3319-1.3331 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, 1.3695, 1.3741-1.3751। সোমবার ব্রিটেন বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট নির্ধারিত নেই। কাজেই, যদি আজ ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আবারও কারেন্সি মার্কেটকে "বিস্ফোরিত" না করে, তাহলে এই পেয়ারের মূল্যের অস্থিরতার মাত্রা কম থাকতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।