বুধবার প্রায় সারাদিনই GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে 1.3331-1.3476-এর সাইডওয়েজ চ্যানেলে অবস্থান করছিল, কিন্তু গতকাল তা ফেডের বৈঠকের ফলাফলের প্রভাবে তীব্র দরপতন ঘটেছে। যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি, আমরা মনে করি না যে কেভিন ওয়ার্শের প্রথম বৈঠকের ফলাফল সম্পূর্ণরূপে অপ্রত্যাশিত ছিল। তিন মাসে মুদ্রাস্ফীতির হার 4.2%-এ বৃদ্ধি পাওয়ায় মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর অবস্থান গ্রহণের বিষয়টি প্রত্যাশিত ছিল। তবু মার্কেটে অত্যন্ত তীব্রভাবে প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে; ট্রেডাররা চলতি বছর শেষের আগে একবার সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা করছিলেন। তাই আমরা মনে করিনা যে মার্কিন ডলারের মূল্য অবিরতভাবে বাড়তে থাকবে। অবশ্য, যদি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি আবার ভেস্তে যায় বা যুদ্ধবিরতি পুনরায় লঙ্ঘিত হয়, তবে ট্রেডাররা আবার 'নিরাপদ বিনিয়োগ' হিসেবে মার্কিন ডলারের দিকে ঝুঁকতে পারে। তবে এই চুক্তি ব্যর্থ হওয়ার খুব বেশি প্রত্যাশা নেই, কারণ এটি এখনও স্বাক্ষরিতও হয়নি। তবুও, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই কিছুটা আগ্রাসী মনোভাব দেখাচ্ছেন।

বুধবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে তিনটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছে। ফেডের বৈঠকদের ঠিক পরেই এই পেয়ারের মূল্য 1.3380-1.3386 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে, এবং কিছুক্ষণ পরে 1.3319-1.3331 এরিয়াও ব্রেক করে নিম্নমুখী। ফলে নতুন ট্রেডারদের কাছে একটি শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ ছিল, এবং এই পেয়ারের মূল্য শেষ পর্যন্ত 1.3259-1.3267-এর লক্ষ্যমাত্রা পর্যন্ত পৌঁছায়। এই এরিয়া থেকে বাউন্সের ফলে লং পজিশন ওপেন করাও সম্ভব হয়েছিল, যার ফলে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত প্রায় 40 পিপস লাভ হয়েছিল।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্য সাইডওয়েজ চ্যানেল থেকে বের হয়ে নিম্নমুখী হয়েছে, তবে আমরা সন্দিহান যে এই দরপতন অব্যাহত থাকবে কিনা। অবশ্য, মার্কিন ডলারের আরও দর বৃদ্ধির জন্য যদি গুরত্বপূর্ণ কোনো কারণ দেখা যায়, তাহলে এমনটা ঘটতে পারে—কিন্তু বর্তমানে এমন কোনো কারণ দেখা যায় না। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সমাধানের পথে এগোচ্ছে এবং ফেড কেবল চলতি বছরের শেষদিকে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে; এই বিষয়টি ইতোমধ্যেই মার্কেটে মূল্যায়িত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3319-1.3331 এরিয়া থেকে বাউন্স করে তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3259-1.3267 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3319-1.3331 এরিয়ার ওপর কনসলিডেট করে তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3380-1.3386 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, 1.3695, এবং 1.3741-1.3751। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের বৈঠকের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। মূল সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে তবে আর্থিক নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির ভোটের ফলাফল আগে থেকেই বলা সম্ভব নয়। গতকালকের ফেডের বৈঠকের মতোই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে—যেখানে হকিশপন্থী সদস্যদের সংখ্যা ট্রেডারদের প্রত্যাশার তুলনায় বেশি বা কম হলে তা এই পেয়ারের মূল্যের মুভমেন্টের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।