শুক্রবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যের দুর্বল মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হয়েছে এবং মাত্র 42 পিপস ভোলাটিলিটি দেখা গিয়েছে। এটি স্পষ্ট যে সেদিন ট্রেডাররা বৈশ্বিক কোনো ঘটনার প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। যুক্তরাজ্যে দুইটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, যেগুলোকে আমরা প্রাথমিকভাবে স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছিলাম এবং মার্কেটে কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির আশা করিনি। যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের থেকে কনজিউমার সেন্টিমেন্ট ইনডেক্স বা ভোক্তা মনোভাব সূচক প্রকাশিত হয়েছিল, কিন্তু সেটাও মার্কেটে কোনো প্রভাব ফেলেনি। বৃহস্পতিবার যথেষ্ট সক্রিয় মুভমেন্ট পরে মার্কেট আবার স্থবির হয়ে গিয়েছিল এবং সামগ্রিকভাবে ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে যে এক মাসের বেশি সময় ধরে সাইডওয়েজ চ্যানেলভিত্তিক ট্রেডিং করা হচ্ছে। মার্কেটে কেন এমন দুর্বল ট্রেডিং কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে তার কারণ বেশ স্পষ্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৯ তমবারের মতো ইরানের সঙ্গে চুক্তি এবং হরমুজ প্রণালী অবরোধমুক্ত হওয়ার, কিন্তু আগের ২৮ বার কিছুই হয়নি, তাই এইবার মধ্যপ্রাচ্যে কী ঘটবে ট্রেডাররা সেটাই দেখার অপেক্ষায় আছে। যদি এই সপ্তাহে চুক্তি আসলেই স্বাক্ষরিত হয়, মার্কিন ডলারের চাহিদা অব্যাহতভাবে কমবে, কারণ ট্রেডারদের আর নিরাপদ অ্যাসেটের প্রয়োজন থাকবে না। এবং ২০২৬ সালে মার্কিন ডলারকে শুধুমাত্র এই একটি কারণই ঊর্ধ্বমুখী হতে সহায়তা করেছে।

শুক্রবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি বাই সিগন্যাল গঠিত হয়েছে, যা ট্রেডারদের দুইটি লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ দিয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই এই পেয়ারের মূল্য নির্ধারিত দিকে 25-30 পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করেছে। গতরাতে ট্রাম্পের বিবৃতির পর আমরা আরেকবার এই পেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পেতে দেখেছিলাম, তবে 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে বাউন্সের ফলে একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এক মাস ধরে GBP/USD পেয়ারের ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক ট্রেডিং পরিলক্ষিত হচ্ছে, কারণ ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ধারাবাহিকভাবে নেতিবাচক রয়েছে, যার উন্নতি বা অবনতি কোনোটাই ঘটছে না। তবে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু না হলে মার্কিন ডলারের দর ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মতো বৃদ্ধি পাওয়ার প্রত্যাশা করা কঠিন। যদি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে, তাহলে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটতে পারে
সোমবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3380-1.3386এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়ার ওপরে কনসোলিডেট করে, তখন লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3587-1.3598 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, 1.3695, এবং 1.3741-1.3751। সোমবার যুক্তরাজ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট নির্ধারিত নেই বা কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না, যখন যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প উৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা সম্ভবত মার্কেটে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে না। আজ কারেন্সি মার্কেট আবারও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।