সোমবার GBP/USD পেয়ারেরও EUR/USD পেয়ারের মতোই ট্রেডিং পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পাউন্ডের উল্লেখযোগ্যভাবে দরপতন ঘটে এবং পরবর্তীতে প্রায় পুরোপুরিভাবে পুনরুদ্ধার করে। তবে লক্ষ্য করার বিষয়—ইউরোজোনের বেকারত্বের হার সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফল হয়ত ইউরোর দরপতন ঘটিয়েছে, কিন্তু এই বিষয়টি ব্রিটিশ পাউন্ডের জন্য প্রাসঙ্গিক নয়। যখন যুক্তরাষ্ট্রে ISM প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, তখন মার্কিন ডলারের মূল্যের উত্থান থেমে যায় এবং এটির দর নিম্নমুখী হতে শুরু করে—যদিও সূচকটির ফলাফল প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গিয়েছে। সুতরাং এটিও বলা যায় না যে মার্কেটের ট্রেডাররা সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন ফলাফল দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে; বরঞ্চ মুভমেন্টগুলো সম্পূর্ণভাবে সামষ্টিক প্রতিবেদনের ফলাফলের বিপরীতধর্মী ছিল। সোমবার কোনো উল্লেখযোগ্য ভূ-রাজনৈতিক সংবাদ প্রকাশিত হয়নি, এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যের মুভমেন্ট অনেকটা ইউরোর মতোই ছিল—সামান্য ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সাথে প্রায় ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট দেখা যাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মাত্রা এখন খুবই উচ্চ হওয়ায় ট্রেডাররা বর্তমানে ক্রয় বা বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো তাড়াহুড়ো করছে না।

সোমবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, এবং আজ সকালে একইরকম একটি সিগন্যাল গঠিত হতে পারে। মার্কিন সেশনের সময় এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে বাউন্স করে এবং প্রায় 30-35 পিপস নিম্নমুখী হয়েছিল, পরে দ্রুতই মূল্য প্রাথমিক লেভেলে ফিরে আসে। ফলে শর্ট পজিশন থেকে কেবল তখনই লাভ করা যেতে পারত যদি ট্রেডটি ম্যানুয়ালি "ইন দ্য এয়ার" ক্লোজ করা হতো, কারণ এই পেয়ারের মূল্য পুরোপুরিভাবে 1.3380-1.3386-এর লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছায়নি।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের একটি নতুন নিম্নমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে এবং মূল্য ট্রেন্ডলাইন ব্রেক করে নিম্নমুখী হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু না হলে মার্কিন ডলারের দর ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মতো বৃদ্ধি পাওয়ার প্রত্যাশা করা কঠিন। পৃথক ঘটনার ভিত্তিতে এখনও মার্কিন ডলারের দর কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে (যেমনটি এই সপ্তাহে যা লক্ষ্য করা গেছে), তবে আমরা মনে করি না যে মার্কেটে নতুন করে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা সৃষ্টি হবে।
মঙ্গলবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে বাউন্স করে তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3380-1.3386 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়ার উপরে কনসোলিডেট করে, তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3587-1.3598 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, 1.3695, এবং 1.3741-1.3751। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যে তেমন কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না এবং সেইসাথে কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এপ্রিল মাসে সৃষ্ট কর্মসংস্থান সম্পর্কিত JOLTS প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আজ আবারও সম্ভবত এই পেয়ারের মূল্যের টেকনিক্যাল কারণভিত্তিক এবং দুর্বল মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।